আদি পর্ব  অধ্যায় ১

সৌতিঃ উবাচ

নিষ্প্রভে’স্মিন্নিরালোকে সর্বতস্তমসাবৃতে |  ৩৮   ক
বৃহদণ্ডমভূদেকং প্রজানাং বীজমব্যয়ম‌্ ||  ৩৮   খ
অনুবাদ

সৌতি বললেন - ইতিহাসের কথা বলছি যখন তখন শুরু থেকে আরম্ভ করি - এই জগৎ-সৃষ্টির ব্যাপারে আমাদের পৌরাণিক ধারণাটা এইরকম - সৃষ্টির আগে সমস্ত কিছুই আলোকহীন গাঢ় অন্ধকার, সমস্ত কিছুই নিরালোক তমসায় আবৃত। এই অবস্থায় সেখানে প্রথম জন্মাল একটি বিরাট অণ্ড (ডিম) - তিনি অবিনাশী, অব্যয় এবং সেই অণ্ডই এই জগতে যা কিছু জন্মেছে তার কারণ - সমস্ত প্রজননের বীজ।

টিকা

ঋগ্‌বেদ বলেছে - সৃষ্টির আগে সর্বত্র ছিল অন্ধকার - তম আসীত্তমসা গূঢ়মগ্রে। মহাভারত অন্যত্র বলেছে - অন্ধকারের ওপরে যেন অন্ধকার - তমাসীবাপরং তমঃ।


এই বৃহৎ অণ্ডের পারিভাষিক নাম হল হিরণ্যগর্ভ, Golden embryo. তাঁর অপর নাম মহান্‌, মহত্তত্ত্ব, আরো পরিষ্কার করে বললে ব্রহ্মা। সাংখ্যের ভাষায় ব্রহ্মা হলেন অব্যক্তা প্রকৃতির first evolute. মাতৃগর্ভে সৃষ্টির বীজ নিষিক্ত হলে গর্ভ যেভাবে বৃদ্ধিলাভ করে, জগৎসৃষ্টির ক্ষেত্রেও প্রথমে সেই জলের কল্পনা। ব্রহ্মাণ্ডের কল্পনায় এই জলের গর্ভই হল প্রথম পর্যায়, যা ঋগ্‌বেদের অন্য অন্য মন্ত্রেও কল্পিত হয়েছে [ঋগ্‌বেদ ১.৭০.২; ৩.১.১২; ১০.১২১.১; ৬.৪৮.৫] । এর দ্বিতীয় পর্যায় হল হিরণ্যগর্ভ। মাতৃগর্ভে যাকে আমরা জরায়ু বলি, বৈদিক সংস্কৃত এবং আয়ুর্বেদের ভাষায় সাধারণত তাকেই 'উল্ব' বলা হয়, সাধারণ শব্দে সেটাই গর্ভ, কখনো কখনো সেটাকে অণ্ডও বলা হচ্ছে। এটা যেমন-তেমন গর্ভ নয় বলেই হয়তো গৌরবজনক 'হিরণ্য' শব্দটি 'গর্ভ' শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। শতপথ ব্রাহ্মণের মতো প্রাচীন গ্রন্থে মহত্তত্ত্বের তিনটি পর্যায়েরই উল্লেখ করে বলা হয়েছে - সকলের আগে প্রথমে জলই ছিল - আপো হ বা ইদমগ্রে সলিলেমেবাসীৎ। তারপর সেখানে হিরণ্ময় অণ্ডের সৃষ্টি হল - হিরন্ময়মণ্ডং সম্বভূব। তারপর সৃষ্ট হলেন এক পুরুষ যাঁর নাম প্রজাপতি - পুরুষঃ সমভবৎ স প্রজাপতিঃ। সমস্ত প্রজননের বীজভূত প্রজাপতি ব্রহ্মা।