সৌতিঃ উবাচ
এই অণ্ডের মধ্যেই সেই পিতামহ, তিনি সমস্ত জগতের একক প্রভু, প্রজাপতি ব্রহ্মা, সুরগুরু বিষ্ণু এবং প্রলয়কাল পর্যন্ত স্থায়ী স্থাণু রুদ্র। তারপুর মনু, হিরণ্যগর্ভ 'ক'১ প্রজাপতি। সৃষ্টিকর্তা পরমেষ্ঠী প্রজাপতির জন্মও এই অণ্ড থেকেই।
১ এখানে ব্রহ্মার যতই একটা আকারিক রূপ পাওয়া যাক, বস্তুত তাঁর এই আকার যে এই দৃশ্যমান জগতের মাধ্যমেই অবধারণ করার চেষ্টা করছি এবং এই সৃষ্ট জগৎটাই যে তিনি নন, তাঁর থেকেও সূক্ষ্মতর কিছু, সেটা বোঝা যায় ওই মহান বা হিরণ্যগর্ভ শব্দ দুটি থেকেই অথবা আরো অস্পষ্ট 'বুদ্ধি' বা 'খ্যাতি' ইত্যাদি শব্দ থেকে। মহান এর প্রতিশব্দ হিরণ্যগর্ভ শব্দটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ কেননা ঋগ্বেদের হিরণ্যগর্ভ সূক্ত থেকে এই শব্দের পরম্পরা নেমে এসেছে। আর দ্বিতীয়ত এই শব্দটি ব্যাখ্যা করতে গেলেই অব্যক্তা প্রকৃতির এই প্রথম ব্যক্ত পরিণামের পর্যায়গুলি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। বৈদিক হিরণ্যগর্ভ সূক্তের অধিষ্ঠাত্রী দেবতার নাম 'ক', যার অন্য নাম প্রজাপতি (অর্থাৎ ব্রহ্মা)। আশ্চর্য হল, এই সূক্তের প্রথম মন্ত্রের শেষ চরণে অধিষ্ঠাত্রী দেবতার সর্বব্যাপিত্ব, সর্ব শক্তিত্ব খ্যাপন করার পরেই অন্য দেবতাদের গৌণতা প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, কেননা হিরণ্যগর্ভের কোনো স্পষ্ট রূপ পাওয়া যায় না এবং পণ্ডিতেরা বলে থাকেন যে - বৈদিক এই হিরণ্যগর্ভ সূক্তের মধ্যেই ঔপনিষদিক ব্রহ্ম-ভাবনা, যা অনির্বচনীয় তথা ব্যাখ্যার অতীত, তার প্রথম সূত্রপাত ঘটেছে। হিরণ্যগর্ভ সূক্তের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা 'কঃ প্রজাপতির' স্বরূপ উদ্ঘাটন করতে গিয়ে একজন গবেষক অত্যন্ত মূল্যবান মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন - From the references, strewn over the whole bulk of the vedic literature, to the episode of the 'embryo', often styled 'golden', three stages can be discerned, of these the first refers to the appearances of the embryo or the poetal envelope or the egg and last to the birth of a deity.