ঋষয় উচুঃ
বেদব্যাসের আদেশে জনমেজয়ের সামনে বৈশম্পায়ন মুনি ভারত ইতিহাস গ্রন্থে অর্থ সমন্নিত এই সব পুণ্যকথাই শুনিয়েছিলেন। এই গ্রন্থে বৈদিক ভাষার অবোধ্যতা নেই, লৌকিক ব্যাকরণের সংস্কার১ প্রাপ্ত সংস্কৃত ভাষায় সে রচনা শুনিয়েছেন বৈশম্পায়ন, নানা শাস্ত্রের নানা কথায় সেই আখ্যানের উদ্দীপন-বিবর্ধনও ঘটেছে তাঁরই মাধ্যমে।
১ বৈদিক সংস্কৃত ভাষার সঙ্গে আমাদের পরিচিত সংস্কৃত ভাষার তফাৎ আছে। বৈয়াকরণ পাণিনি বৈদিক ভাষাকে বলেছেন 'ছন্দঃ' এবং তাঁর নিয়ম-সংস্কারে যে ধ্রুপদী সংস্কৃত ভাষা তৈরি হল, তাঁর নাম দিয়েছেন ভাষা। পতঞ্জলি বলেছেন - বৈদিক এবং লৌকিক ভাষা। বেদ-উপনিষদের পর থেকে যে ভাষায় রামায়ণ-মহাভারত লেখা হয়েছে, সে ভাষার মধ্যে পাণিনির সংস্কার আছে বলেই মহাভারতের ভাষাকে 'সংস্কার লাভ করেছে' এমন একটা লোকবোধ্য ভাষা বলা হয়েছে। বৈদিক ভাষাকে সংস্কার করেই যে সংস্কৃত ভাষা তৈরি হয়েছে, সেই সংস্কার করা অর্থে 'সংস্কৃতা' শব্দটি প্রথমে পাই রামায়ণে - লঙ্কায় অবরুদ্ধা সীতার সামনে কোন ভাষায় কথা বলবেন এই দ্বন্দ্বে পড়ে হনুমান বলছেন - আমি সংস্কার করা মানুষী ভাষায় কথা বলব নাকি বৈদিক ব্রাহ্মণদের সংস্কৃতে কথা বলব - বাচং চোদাহরিষ্যামি মানুষীমিব সংস্কৃতাম্। [রামায়ণ (তর্করত্ন) ৫.৩০.১৭-১৮] মহাভারত এটাকেই বলেছে - সংস্কারোপগতাং ব্রাহ্মীম্।