সৌতিঃ উবাচ
মুনি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস যেমনটি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সেইভাবেই মহাভারত-কথা আরম্ভ করলেন বটে, কিন্তু কথার মাঝে মাঝেই তিনি এমন দুর্ভেদ্য-জটিল এবং গূঢ় গ্রন্থগ্রন্থি১ নিবেশ করেছিলেন, যা কৌতূহল জাগায়। [অর্থাৎ কৌতূহল নিবৃত্ত করার জন্য মাঝে মাঝে থামতে হচ্ছিল গণেশকে।]
১ লেখকের চিন্তিত বিচিত্র বিষয় এবং চিন্তা একত্রে গ্রন্থিত হয়েই গ্রন্থ তৈরী হয়। আর গ্রন্থি মানে গাঁট। গাঁট যেমন বাঁশজাতীয় বৃক্ষের মসৃণতায় বাধা সৃষ্টি করে, তেমনই লেখকের দুরূহ-কূট ভাবনাও পাঠকের মসৃণ বোধের মধ্যে অবোধ্যতার কৌতূহল তৈরি করে। গ্রন্থগ্রন্থি ব্যাপারটা অনেক গভীর লেখকেরই এক বিলাস। নৈষধচরিতের লেখক শ্রীহর্ষ লিখেছেন—রামা-শামা আমার এই কাব্যের মধ্যে যাতে খেলা না করার সুযোগ পায়, তার জন্য আমি ইচ্ছে করেই আমার এই কাব্যের মধ্যে মাঝে মাঝে গ্রন্থগ্রন্থি ঢুকিয়ে রেখেছি—গ্রন্থগ্রন্থিরিহ ক্কচিদপি ন্যাসি প্রযত্মান্ময়া। শ্রীহর্ষ মহাভারত থেকেই গ্রন্থগ্রন্থি কথাটা পেয়েছেন ।