আদি পর্ব  অধ্যায় ১

সৌতিঃ উবাচ

অসচ্চ সদসচ্চৈব যদ্বিশ্বং সদসত্ পরম্‌ |  ২৫   ক
পরাবরাণাং স্রষ্টারং পুরাণং পরমব্যয়ম্‌ ||  ২৫   খ
অনুবাদ

নমস্কার জানাই তাঁকে; যিনি বাস্তব দৃষ্টিতে আসলে নেইই, আবার চরাচর বিশ্বজগৎ তাঁর দৃশ্যমান স্বরূপ বলে তিনি আছেনও - তিনি সদসৎ, আবার তিনি কারণও নন, কার্যও নন বলে থাকা-না-থাকার বাইরে অন্য এক পরম তত্ত্বও তিনি। সমস্ত স্থাবর জঙ্গমের তিনি স্রষ্টা। তিনি সেই পুরাণ পুরুষ। নমস্কার জানাই তাঁকে - যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ, এক অব্যয় তত্ত্ব, তাঁর ক্ষয়-ব্যয় নেই।

টিকা

ঋগ্‌বেদের নাসদীয় সূক্ত থেকে এই সৎ এবং অসৎ-এর ধারণা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ জগৎ সৃষ্টির পূর্বে এমন কিছু ছিল, যা থেকে এই পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে। অন্যমতে, কিছুই ছিল না, কিন্তু সেই 'না' থেকেই 'আছে'র সৃষ্টি হয়েছে। নাসদীয় সূক্তে বলা হয়েছে - যা নেই, তাও ছিল না তখন। আবার যা আছে তাও ছিল না - নাসদাসীন্নো সদাসীত্তদানীম্‌। এই বৈদিক সূত্র থেকেই উপনিষদের কালে সাংখ্যদর্শনে, সেই বিখ্যাত প্রশ্ন উঠেছে। তৈত্তিরীয় উপনিষদ বলেছে - প্রথমে কিছুই ছিল না। কিন্তু সেই অনস্তিত্ব থেকেই অস্তিত্বের সৃষ্টি হয়েছে - অসদ্‌বা ইদমগ্র আসীৎ। ততো বৈ সদজায়ত। আর ছান্দোগ্য উপনিষদে এই দুই বিপরীত পক্ষ উপস্থিত করেই সমাধান হিসেবে উপস্থিত করা গেছে ব্রহ্মতত্ত্বকে - সদেব সৌম্য ইদমগ্র আসীদেকমেবাদ্বিতীয়ম্‌। তদ্ধৈক আহুরসদেবেদমগ্র আসীদেকমেবাদ্বিতীয়ং তস্মাদসতঃ সজ্জায়ত। [ ঋগ্‌বেদ ১০.১২৯.১; তৈত্তিরীয় উপনিষদ ২.৭.১; ছান্দোগ্য উপনিষদ ৬.১৪.১]