সৌতিঃ উবাচ
ঋষি দ্বৈপায়ন ব্যাস এই গ্রন্থে ভরতবংশীয় রাজাদের ধর্মবোধ এবং নীতিজ্ঞানের কথা যেমন বলেছেন, তেমনই বলেছেন এই ভরতবংশের আনুক্রমিক বিস্তারের কথা। এই সূত্রেই ইতিহাসের১ কথাও বলেছেন তিনি - বলেছেন কত রাজপরম্পরার কথা - নল রাজার কথা, রামচন্দ্রের কথা; বলেছেন বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র ইত্যাদি কত ঋষি পরম্পরার কথা। একই সঙ্গে ব্যাস এখানে বহুতর শ্রুতিবাক্য২ এবং তার ব্যাখ্যাও উচ্চারণ করেছেন। আর এখানেই এসেছে অনেক লোকশ্রুতির কথাও।
১ ইতিহাস বলতে এখন আমরা যে অর্থে ‘হিস্টরি’ (History) বুঝি, সংস্কৃতে সে অর্থ বোঝায় না। সংস্কৃতে ‘ইতিহ’ শব্দটা অব্যয় শব্দ এবং তাঁর অর্থ পরম্পরা প্রাপ্ত কাহিনী বা tradition। এইরকম কাহিনীর যে অবস্থান বা আসন সেটাই ‘ইতিহাস’ (ইতিহ+আস) অমরকোষের ব্রহ্মবর্গে ‘ইতিহ’-শব্দ থেকেই ‘ঐতিহ্য’ শব্দটা এসেছে এবং ইতিহাসের অর্থ ধরেই সেখানে ঐতিহ্যের ব্যাখ্যা এইরকম যে, ‘ইতিহ’ অব্যয়টির দ্বারা পরম্পরার উপদেশ দেওয়া হয়—পারম্পর্যোপদেশে স্যাদৈতিহ্যমিতিহাব্যয়ম্। এরপর স্বর্গবর্গে বলেছে ইতিহাসঃ পুরাবৃত্তম্।
২ ধরা যাক শ্রুতিবাক্য আছে ‘এই সমস্ত কিছুই ব্রহ্ম’—ব্রহ্মৈবেদং সর্বম্-- তার ব্যাখ্যা কিন্তু অন্যতর আর এক শ্রুতিবাক্য—যেমন, এই সমস্ত কিছুই ব্রহ্ম, ব্রহ্ম ছাড়া অন্য কিছু বা অন্য প্রকার কিছুই নেই—সর্বং খল্বিদং ব্রহ্ম নেহ নানাস্তি কিঞ্চন। আবার ধরা যাক বলা হল—ব্রহ্মবিদ্ পরম বস্তুকে লাভ করে—ব্রহ্মবিদাপ্তোতি পরম্-- এই সূত্রের বিচারে ব্রহ্মবিদ কোন পরম বস্তুকে পায় তার ব্যাখ্যা দিয়ে ব্রহ্মের সত্যস্বরূপতা, জ্ঞান-স্বরূপতা কিংবা তাঁর অনন্ত-স্বরূপতাকে জানাটাই যে পরম বস্তু হিসেবে ব্রহ্মকেই পাওয়া—সত্যংজ্ঞানমনন্তং ব্রহ্ম—এই শ্রুতিবাক্য কিন্তু আগের শ্রুতির ব্যাখ্যা। এখানে ‘সহব্যাখ্যা’র জায়গায় ‘সবৈয়াখ্যাঃ’ পাঠও আছে। ব্যাখ্যাকে অবলম্বন করে যে গ্রন্থ তৈরি হয় তাকে ‘বৈয়াখ্য’ বলে।