আদি পর্ব  অধ্যায় ১

সৌতিঃ উবাচ

ধর্মকামার্থযুক্তানি শাস্ত্রাণি বিবিধানি চ |  ৫৮   ক
লোকযাত্রাবিধানং চ সর্বং তদ্দৃষ্টবানৃষিঃ ||  ৫৮   খ
অনুবাদ

ধর্মশাস্ত্র, অর্থশাস্ত্র, কামশাস্ত্র এবং অন্যান্য বহুতর শাস্ত্র যা সমস্ত লৌকিক বিষয়ে সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষা করে থাকে, সেই সমস্ত বিষয়ই মহর্ষি বেদব্যাস যোগবলে জানতে পেরেছিলেন।

টিকা

লৌকিক জীবনের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মনু, যাজ্ঞবল্ক্য, পরাশর ইত্যাদি বিদ্বান-পণ্ডিতেরা যে শাস্ত্র রচনা করেছেন, সেগুলি হল ধর্মশাস্ত্র। লৌকিক জীবনের ধন-সমৃদ্ধি, জমি-জমা, রাজ্যলাভ এবং সার্বিক ঐশ্বর্য লাভ করার জন্য যে শাস্ত্র রচিত হয়েছে, সেগুলি অর্থশাস্ত্র। যেমন কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, কামন্দকীয় নীতিসার ইত্যাদি। ইন্দ্রিয়-সুখ লাভের জন্য স্ত্রী-পুরুষের মৈথুন-ধর্ম-ভাবিত শাস্ত্রই কাম-শাস্ত্র। যদিও কামশাস্ত্রের মধ্যে অন্যান্য ইন্দ্রিয়-তৃপ্তির রসায়নও সন্নিবিষ্ট হয়েছে।


দৃষ্টবান্‌ ঋষিঃ। প্রবাদবাক্যের মতো এই কথা বলা হয়—যিনি ভূয়োদর্শন করেন। অন্যদের যেখানে দৃষ্টি যায় না অথবা দেখলেও অধিগত হয় না, সে সব যিনি দেখতে পান, তিনি ঋষি—দর্শনাৎ ঋষয়ো বভূবুঃ। এই দৃষ্টি মনোলোকের সমৃদ্ধ দৃষ্টি, যাতে জল-স্থল-অন্তরীক্ষের অদৃষ্ট বস্তুও দৃষ্টিগোচর হয়, অন্যের মানস-গোচর বস্তু প্রতিভাত হয়। এই দৃষ্টিতে কবি, বিজ্ঞানী, সুরস্রষ্টা, চিত্রশিল্পীরাও ঋষি।