ব্রহ্মা উবাচ
নিজ নিজ কর্মফলের জটিলতায় যেসব মানুষ আবদ্ধ হয়েছিল, অজ্ঞানের অন্ধকারে যাদের চক্ষু অন্ধ হয়ে যাবার জোগাড় হয়েছিল, তুমি সেখানে কাজ করেছ বৈদ্যকশাস্ত্রে বলা তিমির-রোগহারী কাজলের মতো। তুমি জ্ঞান-কজ্জলের শলাকা-তুলিকা দিয়ে অজ্ঞান-তিমিরাচ্ছন্ন১ ব্যক্তির বুদ্ধিনেত্র উন্মীলন করেছ। তোমার মহাভারত সেখানে হয়ে উঠেছে বুদ্ধিনেত্রের উৎস।
১ কতকগুলি সংস্করণে এই শ্লোকটির অন্য একটি রূপান্তর হল - অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য লোকস্য তু বিচেষ্টতঃ | জ্ঞানাঞ্জনশলাকাভির্নেত্রোন্মীলনকারকম্ || বর্তমান শ্লোকে "জ্ঞানাঞ্জনশলাকা" কথাটি সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত তিমির বা 'তমঃ' শব্দের অর্থ হল অন্ধকার। কিন্তু বৈদ্যকশাস্ত্রে তিমির মানে এক ধরনের চক্ষুরোগ, যাকে অনেকে 'চোখে ছানি পড়া' বলেন। তিমিরান্ধ ব্যক্তি অথবা তমসান্ধ ব্যক্তি বৈদ্যকশাস্ত্র মতে বিশেষ ধরনের চক্ষুরোগে আক্রান্ত বলা যেতে পারে। বৈদ্যকশাস্ত্রে তিমির রোগ বা তমসান্ধতা নিরাময় করার বহু ধরনের অঞ্জন বা কাজল ব্যবহার করা হয়। তাতে চোখের ছানি বা তিমিরান্ধতা দূর হয়ে যায়। বিশুদ্ধ ঘৃতে অনেকক্ষণ ধরে হরিতকী ভেজে নিয়ে কাজল তৈরি করা হয়। তারপর কাষ্ঠশলাকা দিয়ে সেই কাজল চোখে লাগানোটা তিমির রোগ নিরাময় করার অন্যতম প্রাথমিক উপায় বলে জানা যায়। এখানে অজ্ঞানের সঙ্গে তিমির রোগের তুলনা এবং জ্ঞানাঞ্জনশলাকা এখানে ব্যাসের মহাভারত।