আদি পর্ব  অধ্যায় ১

সৌতিঃ উবাচ

যদিদং দৃশ্যতে কিঞ্চিদ্ভূতং স্থাবরজঙ্গমম‌্ |  ৪৭   ক
পুনঃ সংক্ষিপ্যতে সর্ব্বং জগৎ প্রাপ্তে যুগক্ষয়ে ||  ৪৭   খ
অনুবাদ

এটা একটা নিয়মের মতোই যে, যা কিছুই আমরা দেখতে পাচ্ছি—স্থাবর-জঙ্গম, যা কিছুই উৎপন্ন হয়ে এই জগৎ তৈরি করেছে, তা সবই যুগক্ষয়ে অর্থাৎ প্রলয়ের কাল এলে আবার ধ্বংস হয়ে যাবে।

টিকা

যুগক্ষয় কথাটা একটি বিরাট ব্যাপ্ত সময়ের অণ্ডকাল বোঝায় বটে, কিন্তু ভারতীয় ভাবনায় যুগ-কাল এগুলি একটা পুনরাবর্তনের মধ্যে দিয়ে চলে। এখানে সৃষ্টি, স্থিতি, লয় বার বার ঘটে এবং পূর্বের মতো আবর্তিত হয়। বায়ু পুরাণ বলেছে — ব্রহ্মা সেইভাবেই আবার সৃষ্টি করলেন, যেমনটা তিনি পুরাতন কল্পে করেছিলেন — সমর্জ সৃষ্টিং তদ্রূপাং কল্পাদিষু যথা পুরা। সৃষ্টির সম্পূর্ণ স্থিতিকালটাকেই কল্প বলে, কল্পকাল তাই বস্তুত এক বৃহৎ যুগ। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি —এ ই সম্পূর্ণ সময় যেমন এক যুগ, তেমনই এক মনুর সময় থেকে আর এক মনুর সময়ও একটি যুগ, বৎসরও এক রকমের যুগ। এক সূর্যোদয় থেকে পরের দিনের সূর্যোদয়ের দুটি কাল-বিন্দুকেই যুগ-ভাবনার সবচেয়ে সহজ উদাহরণ বলা যায়। এইরকম কাল-বিন্দু ধরেই সত্য-ত্রেতা ইত্যাদি চতুর্যুগের ভাবনা। এই চতুর্যুগ এক হাজার বার আবর্তিত হলে ব্রহ্মার একদিন, যাকে কল্পও বলা হয়। কল্পকাল শেষ মানেই যুগক্ষয়।