সৌতিঃ উবাচ
এটা একটা নিয়মের মতোই যে, যা কিছুই আমরা দেখতে পাচ্ছি—স্থাবর-জঙ্গম, যা কিছুই উৎপন্ন হয়ে এই জগৎ তৈরি করেছে, তা সবই যুগক্ষয়ে১ অর্থাৎ প্রলয়ের কাল এলে আবার ধ্বংস হয়ে যাবে।
১ যুগক্ষয় কথাটা একটি বিরাট ব্যাপ্ত সময়ের অণ্ডকাল বোঝায় বটে, কিন্তু ভারতীয় ভাবনায় যুগ-কাল এগুলি একটা পুনরাবর্তনের মধ্যে দিয়ে চলে। এখানে সৃষ্টি, স্থিতি, লয় বার বার ঘটে এবং পূর্বের মতো আবর্তিত হয়। বায়ু পুরাণ বলেছে — ব্রহ্মা সেইভাবেই আবার সৃষ্টি করলেন, যেমনটা তিনি পুরাতন কল্পে করেছিলেন — সমর্জ সৃষ্টিং তদ্রূপাং কল্পাদিষু যথা পুরা। সৃষ্টির সম্পূর্ণ স্থিতিকালটাকেই কল্প বলে, কল্পকাল তাই বস্তুত এক বৃহৎ যুগ। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি —এ ই সম্পূর্ণ সময় যেমন এক যুগ, তেমনই এক মনুর সময় থেকে আর এক মনুর সময়ও একটি যুগ, বৎসরও এক রকমের যুগ। এক সূর্যোদয় থেকে পরের দিনের সূর্যোদয়ের দুটি কাল-বিন্দুকেই যুগ-ভাবনার সবচেয়ে সহজ উদাহরণ বলা যায়। এইরকম কাল-বিন্দু ধরেই সত্য-ত্রেতা ইত্যাদি চতুর্যুগের ভাবনা। এই চতুর্যুগ এক হাজার বার আবর্তিত হলে ব্রহ্মার একদিন, যাকে কল্পও বলা হয়। কল্পকাল শেষ মানেই যুগক্ষয়।